August 9, 2026, 9:49 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় এরশাদ আলী ওয়াকফ এষ্টেটের অফিসিয়াল মোতোওয়াল্লীর পদ চুড়ান্তকরণ করা হয়েছে। ওই সম্পত্তির দেখভাল করার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা। এরশাদ আলী ওয়াকফ সম্পত্তির অফিসিয়াল মোতোওয়াল্লী হিসেবে সম্পত্তির যাবতীয় কার্যভার তদারকি করবেন পেকুয়ার ইউএনও। এরশাদ আলী ওয়াকফের মোতোওয়াল্লী নিয়োগ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টে শুনানী হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। মোতোওয়াল্লী চুড়ান্তকরণকে কেন্দ্র করে ওয়াকফর এষ্টেটের জমিদাতা এরশাদ আলীর ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধের সুত্রপাত হয়। ওয়াকফর সম্পত্তি দেখভাল কে করবেন। কে হচ্ছেন ওই ওয়াকফ এষ্টেটের পরবর্তী মোতোওয়াল্লী। এ সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ অমীমাংসিত ছিল। গত কয়েক বছর আগে ষ্টেট পরিচালনার জন্য মৃত দরফ আলী চৌধুরীর পুত্র হানিফ চৌধুরীকে মোতোওয়াল্লী (কার্যকারক) নিযুক্ত করা হয়। তার এই নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। অত:পর মোতোওয়াল্লী পদবী বাতিল চেয়ে কোর্টে মামলা হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এরশাদ আলী ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে মোতোওয়াল্লী হিসেবে বাদ পড়েন হানিফ চৌধুরী। পরবর্তীতে নিয়মিত মোতোওয়াল্লীর অনুপস্থিতিতে ওয়াকফ প্রশাসক সম্পত্তির কার্যভার পরিচালনার জন্য পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অস্থায়ী দায়িত্বভার ন্যস্ত করে। গত কয়েক বছর ধরে পেকুয়ার ইউএনও ওই সম্পত্তির অফিসিয়াল মোতোওয়াল্লী হিসেবে এর কার্য সম্পাদন করছিলেন। চলতি বছরে কে হচ্ছেন বৈধ মোতোওয়াল্লী এ নিয়ে মত এবং অভিমত দেখা দিয়েছিল। এ দিকে মো: হানিফ চৌধুরী মোতোওয়াল্লী হিসেবে স্থলাভিসিক্ত হওয়ার জন্য মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন প্রেরণ করেন। ওই রিট আবেদনের শুনানী মহামান্য হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি বছরের ২১ জুন হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। যার নং ৭৪৮৫/২১। সরকারের ধর্মমন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়াকফ প্রশাসক, সহপ্রশাসক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাজস্ব কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পেকুয়াকে বিবাদী করা হয়। এ ছাড়াও ওই রিট আবেদনে ওয়াকফ এষ্টেটে জমিদাতা এরশাদ আলীর ওয়ারিশদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চাঁদপুর থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় সাংসদ মেজর অবসরপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, চট্টগ্রাম শহরের পশ্চিম স্টিল মিলের হাউজিং কলোনীর বাসিন্দা মো: খায়েরের পুত্র শাহীন আলম, চট্টগ্রাম মাঝিরঘাট এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ীর বাসিন্দা মৃত ছৈয়দুল আলম চৌধুরীর পুত্র কুতুব উদ্দিন চৌধুরীকেও বিবাদী করা হয়। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর মহামান্য হাইকোর্টে বিচারক মামনুন রহমান ও বিচারক খন্দকার দিলোরুজ্জামানের সমন্বয় বেঞ্চে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবেদনকারীর পক্ষে এডভোকেট মাহাবুর রহমান কিশোর ও এডভোকেট শেখ শরিফ উদ্দিন শুনানীতে অংশ নেন। ওই শুনানীতে হানিফ চৌধুরীর আবেদনের বিপক্ষে বিচারিক সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছেন। এ ব্যাপারে এরশাদ আলীর ওয়ারিশদের মধ্যে চট্টগ্রামের ছন্দনাইশের বাসিন্দা ছৈয়দ উল্লাহ লিয়াকত আলী জানান, হানিফ চৌধুরী এরশাদ আলী ওয়াকফ সম্পত্তির মোতোওয়াল্লী হওয়ার বৈধতা হারিয়েছেন। ১৯৮৪ সনে সম্পত্তি হানিজনক অপরাধে হানিফ চৌধুরীর পিতা দরফ আলী চৌধুরীকে তৎকালীন ওয়াকফ প্রশাসক মোতোওয়াল্লী থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। সামরিক আদালতে তিনি মামলা করেন। এরপর তাকে আবার মোতোওয়াল্লী হিসেবে বৈধ করে। সামরিক আদালতের ওই আদেশসহ সামরিক সরকারের বেশ কিছু আদেশ পরবর্তীতে হাইকোর্টে বাতিল হয়ে যায়। এ সব বিষয়ে ২০১০ সালে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে হাইকোর্ট ও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন ও লীভ টু আপিল শুনানী করেছি। সেখানে দরফ আলী চৌধুরী ও তার ওয়ারিশরা মোতোওয়াল্লী হবেনা সেটি নিস্পত্তি হয়েছে। এ দিকে এরশাদ আলী ওয়াকফ এষ্টেটের ইজারা ও লাগিয়ত নিয়ে পেকুয়ায় মাইকিং করা হয়েছে। গত ১৫ দিন আগে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে জমি লাগিয়ত নিয়ে স্থানীয়দের সচেতন ও অবহিতকরণ করা হয়েছে। অফিসিয়াল মোতোওয়াল্লী পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে চলতি লবণ মৌসুমে ওই সম্পত্তির চাষা নিয়োগ ও লাগিয়ত চুড়ান্ত হয়েছে। রাজাখালীর লবণ মাঠ লাগিয়তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুলসহ ৬ জনকে। এদের মধ্যে ইউপির সাবেক ২ চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর ও শাহাদাত আলী মাতবরকেও জমির লাগিয়তের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে মর্মে ইউএনও এর কার্যালয় থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।